জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার: পেশায় একজন কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। কোচিং সেন্টারের আড়ালে পরকীয়ায় জড়িয়ে বিকৃত মানসিকতা ও পেতেছে যৌন লালসার ফাঁদ। টার্গেট ধনাঢ্য পরিবারের কিশোরী। ঘরে সুন্দরী স্ত্রী ও ছোট ছোট তিন কন্যা সন্তান রেখে বিভিন্ন সময় ছাত্রী ও প্রবাসী স্ত্রীদের সাথে পরকিয়া সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি আরেক ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে টেকনাফ রাইজিং ইংলিশ হাব নামে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক আহম্মদ ইমরান।
তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কুঙ্গার পাড়া এলাকার আলী আহমদের ছেলে ও রাইজিং ইংলিশ হাব নামের একটি কোচিং সেন্টারের কথিত শিক্ষক ও পরিচালক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আহমদ ইমরান। চলাফেরায় বুঝার উপায় নেই টিউশনই তার জীবন জীবিকার মাধ্যম। চলাফেরায় বেশ ভাবসাব। সেই ভাবসাবকে পুজি করে টেকনাফ পৌরসভার এক ধনাঢ্য পরিবারের কলেজ পড়ুয়া কন্যাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ২০১৪ সালে পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের নেশায় স্ত্রীকে নির্যাতন করে অন্তত ৩০ লক্ষ টাকার অধিক যৌতুক হিসেবে ক্যাশ টাকা আদায় করেছেন। ১২ বছরের দাম্পত্য জীবনে তার সংসারে তিন জন কন্যা সন্তান রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করেও দাম্পত্য জীবনে স্বামীর কাছে মেলেনি নূন্যতম সুখের ছোঁয়া।
স্ত্রীর অভিযোগ, ঘরে সুন্দরী স্ত্রী থাকার পরেও টিউশনে ছাত্রী, কখনো ছাত্রীর বিধবা মা, প্রবাসীর স্ত্রীদের সাথে পরকীয়া কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছিল না। বিভিন্ন সময় নারী শিক্ষার্থীদের কৌশলে গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখত ফোনে। এসব বিষয়ে বাঁধা দিলে চরম মারধর করতেন।
স্ত্রী আরো জানান, গেলো রজানের আগে দিলরুবা নামের কোচিং সেন্টারের এক শিক্ষার্থীর সাথে পরকীয়ায় বাধাঁ দিলে ফের যৌতুকের জন্য মারধর করে ঘর থেকে সন্তানদের নিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে গত দুই দিন পূর্বে দিলরুবাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
দিলরুবার পরিবার জানায়, কোচিং সেন্টারে যাতায়াতের ফাঁকে ইমরাম দিলরুবাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এক পর্যায়ে জোর করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় টেকনাফ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইমরানের কয়েকজন ঘনিষ্ট বন্ধু জানান, ঘরে স্ত্রী সন্তান থাকার পরেও তার পরকীয়ার নেশা এমন পর্যায়ে পৌছেছিলো টাকার জন্য সে সদর ইউনিয়নের প্রবাসীর এক বয়স্ক স্ত্রীর সাথে পর্যন্ত নিয়মিত সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। ্তএছাড়া তার কথিত ইংলিশ হাব কোচিং সেন্টারে কোন শিক্ষার্থীই নিরাপদ নয়। ব্ল্যাকমেইল করতে গোপন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখতো।
তারা আরো জানায়, তাকে এসব কাজে পূর্ণ সহযোগীতা করতো তার একই এলাকার সালাম নামের আরেক নারী লোভী ব্যক্তি। প্রবাসী স্ত্রীদের কাছে ইমরানের যৌন ক্ষুধা ও পয়সা হাতানো শেষ হলে ইমরানের দেওয়া কিছু গোপন ছবি দিয়ে সেসব নারীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন সালাম।
টেকনাফ সরকারী কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক। একজন শিক্ষক জাতির রুল মডেল। যদি মডেলেই পছন ধরে তা হলে জাতি আক্রান্ত হবেই। তাই শিক্ষক নিয়োগের আগে তার চরিত্রের ব্যাপারে খোঁজ নিতে হবে এবং শিক্ষার্থী যতক্ষন পর্যন্ত শিক্ষকের কাছে পড়ে, ততক্ষন অভিভাবকদের তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।
এই ঘটনার পর ইমরানের একে একে সব অপকর্ম ফাঁস হয়ে গেলে অভিভাবকদের মনে কোচিং সেন্টার ও গৃহ শিক্ষকদের নিয়ে এক ধরণের আতংক সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবক। তারা বলে, যাদেরকে মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয় তাদের কাছে যদি সন্তানরা নিরাপদ না থাকে তাহলে বিষয়টি বেশ উদ্বেগ জনক। অতি দ্রুত এই কলংকিত ব্যক্তিতে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।